
দিন-রাত ডেস্ক ঃ
সিলেটের কানাইঘাটের রাজাগঞ্জে শিকদার ফাউন্ডেশন কলেজের সীমানার ভেতরে নির্মানাধীন মসজিদ নিয়ে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা নিজেই ভাঙলেন বাদি মতিন শিকদার। গত সোমবার মতিন শিকদার নিজেই দলবল নিয়ে নির্মানাধীন মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্মান সামগ্রী সরিয়ে নিতে পায়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিকদার ফাউন্ডেশন কলেজের প্রতিষ্টাতা ব্যারিস্ট্রার কুতুব উদ্দিন শিকদার। গত সোমবার ব্যরিস্টার কুতুব উদ্দিন এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ কানাইঘাট থানায় দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি জানান- ২০১০ সালে তিনি রাজাগঞ্জে নিজের অর্থায়নে শিকদার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। একই সময় শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য ওই কলেজের বাউন্ডারীর ভেতরে একটি টিনশেডের মসজিদ নির্মান করেন। ২০১৯ সাল থেকে মসজিদটি পাকা করনের কাজ শুরু করেন তিনি। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন- মসজিদটি পাকা করণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে তার ভাই আসকর আলী শিকদারের পক্ষে আমোক্তার মতিন শিকদার প্রবাসে থাকা আসকর আলী শিকদারের জমিতে মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে আদালতে বিভিন্ন মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে একটি মামলা (নং-১০২৪/২০২১) হাইকোর্টে চলমান আছে।
রিট মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই ভুমিতে স্থিতাবস্থা জারি ও বিবদমান উভয় পক্ষতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু মামলার বাদি মতিন শিকদার ও লোকজন সোমবার বেলা ১১ টার দিকে নির্মানাধীন মসজিদে গিয়ে নিচতলা থাকা বিদ্যুতের মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন- নির্মানাধীন কলেজ মসজিদে লক্ষ লক্ষ টাকার ইট, বালু, সিমেন্ট, পাথর ও সাটারিং সামগ্রী চুরি করার উদ্দেশ্যেই বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রথমে স্থানীয় মুরব্বীদের অবগত করা হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলো বলে জানান ব্যারিস্ট্রার কুতুব উদ্দিন শিকদার।
এ ব্যাপারে মতিন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক জানিয়েছেন- ব্যারিস্ট্রার কুতুব উদ্দিন শিকদারের দেওয়া এজাহারটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এখনো বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে- আগে থেকেই উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।