
এস এম উমেদ আলীঃ দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের সুরাই নদীর ওপর ৮০র দশকে নির্মিত মিলনগঞ্জ বাজারের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ না হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।হতে পারে প্রাণহানী।
এলাকাবাসী এটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ঝুকিপূর্ণ এ ব্রিজটি মিলনগঞ্জ বাজারের পাশে টংগর তারাপাশার কাটা গাঙে অবস্থিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন এ ব্রিজের মধ্যখানের দুটি পিলার ফাটল দিয়ে সুরকী খসে পড়েছে, পিলারের রড বের হয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে আছে, রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে অনেক আগ থেকেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেবুতে অনেকেই লিখছেন এ ব্রিজ নিয়ে, ফুটে উঠেছে হতাশা ও ক্ষোভ!
বিশিষ্ট লিখক ও কলামিস্ট আব্দুর রশীদ তারাপাশী লিখেছেন–
টনক বোধহয় তখন নড়বে যখন যানবাহন ও মানুষ নিয়ে ব্রিজটি ধপাস করে পড়বে। তখন হয়ত তদন্ত কমিটিও ঘটিত হবে। জনপ্রতিনিধরা ও হয়তো শোকবার্তা জানাবে। একটু জুম করে অবস্থার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করুন!
আশির দশকের এ পুরাতন ব্রিজটি এখন চলাচলের ক্ষেত্রে অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ, প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সেতুর পাশে অবস্থিত আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয়, হেমন্ত মৌসুমে প্রতিদিন যাতায়াত করছে হাজারো শিক্ষার্থী।
সেতুটির রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে অনেক আগ থেকেই, প্রায় জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্তের। পিলারের রড বের হয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে আছে। হেমন্ত মৌসুমে ইট পাথরের নৌকা সেতুর নিচ দিয়ে যায়না, ফলে ভোগান্তির শেষ নেই বড় বড় নৌকার মাঝিদের।
জানা যায়, সাবেক এমপি জনাব নাছির উদ্দিন চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই সুরাই নদীর উপর এই ব্রিজটি নির্মাণ করেন। যার ফলে অত্র এলাকার সাথে টংগর গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে উঠে। এ ব্রিজটি থাকার ফলে অত্র এলাকার মানুষ কম সময়ে দ্রুত জগন্নাথপুর ও সিলেট যাতায়াত করছে।
এ ব্রিজটি ঘিরেই প্রথমে সুরাই নদীর তীরে গড়ে উঠে হাট, হাট থেকেই চার গ্রামের সকলের ঐক্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে মিলনগঞ্জ বাজার। বর্তমানে বাজারের পাশেই ব্রিজটি অবস্থিত।
পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা অত্র এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী। এ প্রাণের দাবীকে বাস্তবায়ন করতে এমপি মহোদয়ের কাছে ও কয়েকবার যাওয়া হয়েছে, এমনকি জনসভায় ও তুলে ধরা হয়েছে।বার বার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে আশ্বাস আজ অবধিও বাস্তবে রূপান্তরিত হয়নি!
এলাকাবাসী মাননীয় এমপি মহোদয়া জয়া সেন গুপ্তা’র সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন,হেমন্ত মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করবে মিলনগঞ্জ বাজারে আসা যাওয়া লোকজনসহ হাজারো শিক্ষার্থী, মালামাল নিয়ে চলাচল করবে ভারী যানবাহন,ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণহানির দুর্ঘটনা!
তাই এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক!