
হুমায়ূন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের উজান ধল গ্রামে দার্শনিক বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর ১০৫ তম জন্ম বার্ষিকী ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হচ্ছে।
“ভব সাগরের নাইয়া, মিছা গৌরব কররে পরার ধন লইয়া”//” বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ীর ফুলের গন্ধ আমার বাড়ী আসে”//”কেন পিরিতি শিখাইলে রে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি”//” তুমি বিনে আকুল পরাণ থাকতে চায়না ঘরেরে, সোনা বন্ধু ভূইলনা আমারেরে”//” কোন মেস্তোরী নাও বানাইল কেমন দেখা যায়,ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পঙ্কি নায়”// এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা দার্শনিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীত শিক্ষক ও বিশ্বে সমাদৃত ২১ শে পদক প্রাপ্ত প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর ১০৫ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে ঘরোয়া পরিবেশে।
আজ ১৫ ই ফেব্রুয়ারী রোজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলাধীন কালনী নদীর তীরে অবস্থিত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর নিজ গ্রাম উজান ধল গ্রামস্থ নিজ বাড়িতে শাহ আব্দুল করিম পরিষদের আয়োজনে তার জন্ম বার্ষিকীকে ঘিরে চলছে আলোচনা সভা ও বাউল গানের আসর। শাহ আব্দুল করিম পরিষদের সভাপতি বাউল পূত্র শাহ নুর জালাল এর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাউল রমেশ ঠাকুর,বাউল আব্দুর রহমান ও বাউল ফয়সল সহ অনেক গুনী শিল্পীবৃন্দ।
১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী আজকের এদিনে তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনী নদী ঘেষে উজান ধন গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার জন্মদিনকে ঘিরে করোনা ভাইরাসের কারণে বাউলের গ্রামের বাড়িতে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি জন্মদিন পালিত হচ্ছে। তার পিতা ইব্রাহিম আলী ও মাতা নাইওরজান বিবি। দারিদ্র জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তিনি ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত সাধনার মাধ্যমে গানের জগতে প্রবেশ করেন। শৈশব থেকেই একতাঁরা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তিনি ২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবদ্দশায় শাহ আব্দুল করিম ১৬ শ”র বেশী গান লিখেছেন এবং সুর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহ আব্দুল করিম এর একমাত্র পূত্র বাউল শাহ নুর জালাল।
হাবিবা আক্তার ///