
পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোনে চিহ্নিত বালু খেকোরা কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা বাসিন্দারা। শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে এলাকাবাসীর পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন জাফলং নয়াবস্তি গ্রামের বাসিন্দা খোকন আহমদ। এ সময় খোকন আহমদ চিহ্নিত বালু খেকো চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে খোকন আহমদ অভিযোগ করেন- জাফলংয়ে গত তিন মাস ধরে ডৌবাড়ি এলাকার লামা দোমকা গ্রামের বাসিন্দা সুভাস দাস, লেঙ্গুরা গ্রামের মুজিবুর রহমান, মামার দোকান মেলার মাঠের বাসিন্দা ইমরান হোসেন সুমন ও বিশ্বনাথের ফয়জুল ইসলাম ও আসামপাড়া গ্রামের শামসুল আলমের নেতৃত্বে নিষেধাজ্ঞা অমান্য বালু উত্তোলন করছে। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার অভিযান চালালেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। গোয়াইনঘাট উপজেলায় কেবলমাত্র সালুটিকর ব্রিজের উজানে গোয়াইন ১১৭ নামের একটি বৈধ বালু মহাল এবার ইজারায় দেওয়া হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়- প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইজারা বর্হিভুত এলাকা জাফলং, হাদারপাড়, আড়কান্দি থেকেও একই চক্র বালু লুটপাট করছে। গত ৩ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার বালুবাহী কার্গো নৌকা চলাচলের কারনে এরই মধ্যে জাফলং ব্রিজ, গোয়াইনঘাট ব্রিজ, সালুটিকর ব্রিজ সহ শত শত কোটি টাকায় নির্মিত সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খোকন জানান- জাফলংয়ে তাদের বেপরোয়া লুটপাটের কারনে বোমা ও ড্রেজার মেশিনের শব্দে গোটা এলাকায় শব্দ দুষণ হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী বাগান এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে জাফলং চা বাগান হুমকির পড়ে পড়েছে। কান্দুবস্তু ও নয়াবস্তি এলাকা পড়েছে হুমকির মুখে। ওই দুই গ্রামের বাসিন্দারা ঢল থেকে রক্ষার জন্য যে বাধ দিয়েছিলেন সেটিও বালুখেকোরা লুটেপুটে খেয়ে নিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় সাংসদ, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের একান্ত প্রচেষ্ঠায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে গোয়াইনঘাটবাসীর স্বপ্নের সেতু জাফলং ব্রিজও হুমকির মুখে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খোকন আরো জানান- জাফলংয়ে বালুখেকো সুভাস দাস, মুজিবুর রহমান, ইমরান হোসেন সুমন, বিশ্বানাথী ফয়জুল ও সামসুল আলম এখন মুর্তিমান ত্রাস। প্রতিদিনই তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। যারাই প্রতিবাদ করে তাদের উপর হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখে। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর কারনে নিরব আতঙ্ক বিরাজ করছে পর্যটনস্পট জাফলংয়ে। যেকোনো সময় ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুনোখুনির আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা চিহ্নিত পাথর ও বালু খেকো চক্রের কবল থেকে জাফলং নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি, জাফলং চা বাগান, জাফলং ব্রিজ রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি, সিলেটের বিভাগীয় প্রশাসন, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সরকারী সম্পদ লুটপাটকারীদের সম্পদের হিসাব নিতে তারা দুনীতি দমন কমিশনের সুনজর কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নয়াবস্তি গ্রামের সুমন আহমদ, নুরু মিয়া, তাজুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমদ।
হাবিবা আক্তার জেছি //