, ,

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

admin
প্রকাশিত September 11, 2020, 10:00 PM
ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

দৈনিক দিনরাত:

পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মুখপাত্র ঝাং শুইলি ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেছেন যে ভারতীয় সামরিক বাহিনী টহলে থাকা চীনা সৈন্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে পিএলএ বাধ্য হয় পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম ভারত ও চীনের মধ্যে থাকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হলো। ঝাং অবিলম্বে বৈরিতা ত্যাগ করা, এলএসি থেকে প্রত্যাহার, ফ্রন্টলাইন সৈন্যদের সংযত করা ও ঘটনাটির তদন্ত করার জন্য জন্য ভারতীয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

চীন ও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা যখন মস্কোকে বৈঠকে বসে শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘ দিনের বিরোধ অবসানে সম্মত হন, তখনই এই ঘটনা ঘটে। ফলে বিষয়টি বিস্ময়করই।

ভারতীয় পক্ষের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা যাচাই করা এখনই যাচ্ছে না। তবে এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে দুটি। আর দুটির কোনোটিতেই ভারতকে ইতিবাচক আলোকে দেখা যায় না।

প্রথমটি হলো, চীনের সাথে বৈঠক করে ও শান্তি আলোচনা করতে রাজি হয়ে ভারত আসলে একটি খেলা খেলছে। সম্ভবত রাশিয়ার অনুরোধেই ভারত তাতে রাজি হয়েছে। তবে তারা দেখতে চাচ্ছে রাশিয়া কিভাবে সমানভাবে ব্রিকস ও এসসিও অংশীদার চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখে।

এই ধারা অনুযায়ী মনে করা হয়ে থাকে যে ভারত আসলে যা বলে তাতে আন্তরিক নয়, তবে তার স্বল্পমেয়াদি ইমেজ রক্ষার জন্য রাশিয়ার প্রতি অশ্রদ্ধাজ্ঞাপন এড়াতে বৈঠক করছে। অন্য কথায় বলা যায়, ভারত আসলে চীন ও রাশিয়া উভয়ের একটি প্রদর্শনী করছে, উভয়কে প্রতারিত করতে।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি হলো, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আন্তরিকভাবেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে তার চীনা প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠক করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, সশস্ত্র বাহিনী এখন আর ভারতের নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে (যতটা থাকবে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে) নেই।

সর্বশেষ ঘটনার এই ব্যাখ্যা আগের ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এর মাধ্যমে জটিল একটি পরিস্থিতি সামনে চলে আসে।

বিজেপির ২০১৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে বোঝা যাচ্ছে, এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই সোমবার রাতের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার সবচেয়ে নিখুঁত পন্থা।

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ভারত যে চলতি সপ্তাহান্তে খেলা খেলেছে তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আবার এটাও ঠিক যে বিশ্বের কোনো দেশেই সামরিক বাহিনীর একেবারে প্রতিটি কাজের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

ভারতীয় মিডিয়ায় উগ্র দেশপ্রেম থাকার কারণে উত্তেজনা এখন চরম অবস্থায় বিরাজ করছে। অনেকে সন্দেহ করছে, এই পরিস্থিতি কৌশলে উস্কে দিচ্ছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি।

এই প্রেক্ষাপটে এটা অসম্ভব নয় যে রণাঙ্গনের কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হয়তো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। তারাই ভ্রান্তভাবে চীনা সৈন্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রাখতে।

গত কয়েক মাসে লাদাখের বিভিন্ন পয়েন্টে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার আলোকে বলা যায়, ভারতীয় নেতৃত্ব সম্ভবত তাদের সামরিক বাহিনীর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। সমালোচকেরা অনেক দিন থেকেই দাবি করছেন যে দেশটি ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের দিকে নেমে যাচ্ছে, রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনী গুলিয়ে যাচ্ছে।

এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়ে যায় এবং সেইসাথে ভারতের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব উভয়কে নিয়েই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ভুল হিসাবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার অন্ধকার দৃশ্যপট এড়ানোর জন্য ঝাংয়ের পরামর্শ অনুসরণ করতেই হবে ভারতের সামরিক বাহিনীকে। আর সর্বশেষ এই ঘটনার জন্য দায়ীদের সংযত করার জন্য বিজেপিকে অবশ্যই জরুরিভিত্তিতে সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী যদি তার সামরিক বাহিনীর ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারেন, তবে ভারতকে গণতান্ত্রিক দেশের দাবি ত্যাগ করে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত হতে হবে।

Source সিজিটিএন