, ,

মাত্র ৩ মাসের সংসারে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার সুমি

admin
প্রকাশিত November 10, 2020, 07:10 PM
মাত্র ৩ মাসের সংসারে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার সুমি

 

 

মামুন চৌধুরী ::বড় আদর করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন সুমি আক্তার সুমা (২৩) এর বাবা মো. আবুল কাশেম। আবুল কাশেমের মূল বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার আটিটি বাজারে হলে ও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের মেজরটিলার সৈয়দপুর এলাকায় বসবাস করছেন।

গত ১৪ই আগস্ট পারিবারিকভাবে বিয়ে দেন সুনামগঞ্জের জাউয়ার গ্রামের করিম আহমদ ও চম্পা বেগমের ছেলে সায়েম আহমদ (২৫) এর সাথে। বিয়ের মাত্র ৩ মাসের মাথায় যৌতুকের জন্য বার বার নির্যাতন চালানো হয় সুমির উপর।

জানা যায়, পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সুমি আক্তার সুমা ও সায়েম আহমদের মধ্যে। পেশায় সায়েম একজন গাড়ি চালক। বিয়ের কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন সুন্দর চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেও বর পক্ষ থেকে যৌতুকের টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকে সায়েম। এতে সুমি জানায় তার পরিবার আর্থিকভাবে অক্ষম। তার বাবার পক্ষে যৌতুক দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তা মানতে নারাজ সায়েম সহ তার পরিবার। প্রায় ১১দিন পূর্বে মেজরটিলার সৈয়দপুরের সায়েমের পূর্বের বাসায় যৌতুকের বিষয়ে নিয়ে সুমিকে মারধর করা হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টির মিমাংসা করে দেন।

উক্ত ঘটনার পর বাসা বদল করে সায়েম ও তার পরিবার। বর্তমানে সে ৪নং খাদিমপাড়ার পরগনার ৭নং ওয়ার্ড খুনির চক গ্রামের নূরানী মাদ্রাসার পাশের বাসায় বসবাস করছে। সর্বশেষ ৯ নভেম্বর দিবাগত সোমবার মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বর্তমান বাসায় আবারো সুমির উপর নির্যাতন চালায় সায়েম সহ তার মা চম্পা বেগম, ছোট ভাই সেলিম (২১)।

সুমির চিৎকার শুনে প্রতিবেশী সহ বাসার মালিক মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরদিন তারা সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে সুমিকে। সুমির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১০ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

সুমির বাবা আবুল কাশেম জানান, মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে বিয়ে দেন তিনি। কিন্তু আমার মেয়ের উপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন আমি কখনো মেনে নিতি পারি না। বর্তমানে আমার মেয়ের অবস্থা আশংকাজনক। সে সাধারণভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। আমি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপ নিতেও আমি দ্বিধাবোধ করবো না।