
দিনরাত ডেস্ক ঃ সিলেটে এডভোকেট শামসুজ্জামানের অনুসারীদের ক্ষোভ কমছে না। নেতা পদত্যাগ করায় এখন জামান অনুসারীদের মধ্যে একের পর এক পদত্যাগ চলছে। গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন সিলেটের স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকটি ইউনিটের পদবিধারী শতাধিক নেতাকর্মী। এদিকে, জামানকে ফের বিএনপিতে ফিরিয়ে আনতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নেতারা প্রেস ব্রিফিং করে বিএনপি’র হাই কমান্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন। জামানের পদত্যাগে সিলেট বিএনপিতে এখন টালমাটাল অবস্থা। কেন্দ্রের নেতারা এ ব্যাপারে নীরব থাকলেও সিলেটে চলছে পদত্যাগের হিড়িক। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করায় পদত্যাগ করেছেন এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কমিটিতে তৃণমূল নেতাদের মূল্যায়ন না করা, ত্যাগী নেতাদের অপমান ও অপদস্থ করায় সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।
জামানের পদত্যাগের এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল সিলেট নগরের মিরাবাজারস্থ একটি হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বিলাল। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৪টি উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে পদত্যাগকারী নেতারা জানান, একযুগ ধরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখে জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ তাদেরকে বাদ দিয়ে নিস্ক্রিয় ও অযোগ্য এমনকি কমিটিতে ব্যাংক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি হাস্যকর কমিটি উপহার দেয়া হয়েছে। রাজপথের পরীক্ষিত পরিশ্রমী নেতা মওদুদুল হক মওদুদ সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ককে নতুন ঘোষিত কমিটির ৩১নং সদস্য, সিটি করপোরেশনের দুইবারের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিনকে ৩৮নং সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বেলালকে সদস্য, সদর উপজেলার আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম কাদিরকে সদস্য ও আলতাফ হোসেন বিলালকে ৬১নং সদস্য রেখে অপমান অপদস্থ করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি জেলা ও মহানগরের সকল কর্মসূচিতে নিজেদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছি এবং অর্ধ শতাধিক মামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এই কমিটি ঘোষণায় রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে-পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের একফোটা ঘামের মূল্যই রাখেনি আমাদের এই প্রিয় সংগঠনটি। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হোসেন বিলাল জানান, ইতিমধ্যে আমাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের ন্যায় ইনসাফ থেকে বঞ্চিত ও অপমান অপদস্থ করার কারণে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ও শিক্ষাগুরু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ১৮ই আগস্ট পদত্যাগসহ ৩৬ বছরের দীর্ঘ রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠায় এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান পারিবারিক অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে, সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন- ‘আমাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে ওঠা আলোচিত সংগঠন সিলেট স্বেচ্ছাসেবক দল। আজ সংগঠনটি নিস্ক্রিয় ও অযোগ্যদের হাতে। আমরা যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি নিস্ক্রিয় ও অযোগ্যদের নেতৃত্বে কাজ আমাদের করা অপমান ও লজ্জাজনক। তাই আমরা স্ব-স্ব পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’ পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা হলেন- সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম কাদির, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বিলাল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সুজন মিয়া, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসান আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হেলাল আহমদ, গোলাপগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাজু আহমদ চৌধুরী, কানাইঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, জকিগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাচ্চু, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খয়ের, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন বতুল্লা, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এখলাছুর রহমান, কানাইঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ মেম্বার, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, জকিগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওছার আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো.সাবের আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিসবাহ আহমদ, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান আহমদ নান্টু, জালাল উদ্দিন, রাজু আহমদ, আখতার আলী, কালাম আহমদ, মখলিছ আহমদ, আরিফ আহমদ, আব্দুল আহাদ পারভেজ, সিদ্দিক আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান আহমদ, কানাইঘাট উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল ইসলাম বাচ্চু, মো. আছলাম, সাদিকুর রহমান বাবলু, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, মাহবুবুল আলম শাহিন, রুমেল আহমদ, সাইফুল উল্যা আহমদ, জামিল আহমদ, কিবরিয়া আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, সামাদুর রেজা, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সাজ্জাদ আলী শিপলু, শেখ শাহজাহান আহমদ। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আমিন আহমদ, মিছবাহুর রহমান, খোকন মিয়া, আলা উদ্দিন আলী, শমসের হোসেন, হান্নান আহমদ, রাব্বি হোসেন, দিলওয়ার হোসেন, শায়েস্তাউর রহমান, আলাল মিয়া, বদরুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন, শহিদ আহমদ, জাকারিয়া হোসেন, আহমেদ জামিল, রুম্মান আহমদ, ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।সূত্র ঃ মানবজমিন/ ফাহিমা