, ,

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে স্বপ্ননীড়ের বাড়ি বিক্রি

admin
প্রকাশিত January 28, 2021, 09:02 AM
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে স্বপ্ননীড়ের বাড়ি বিক্রি
  •  কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

সিলেট জেলার  উপজেলায় কোম্পানীগঞ্জে বাড়ি বিক্রি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে একটি বাড়ি। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সাথে স্থানীয় সিভিল প্রশাসন ও কতিপয় জনপ্রতিনিধি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে ঘর পাওয়ার জন্যে অনৈতিক ফায়দা দিয়েছে স্থানীয় দালাল প্রশাসনকে। ওই এলাকার স্বপ্ননীড়ের অনেক ঘরের টিনের চালাও দেয়া হয়নি। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্ননীড় বাড়ি বিক্রয় ও নানান অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ জানুয়ারি স্বপ্ননীড়ের বাড়ি দেশব্যাপী উপহার হিসেবে গৃহহীনদের হাতে তুলে দেয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৫৭ টি পরিবার পেয়েছেন স্বপ্ননীড়ের ঘর। এর মধ্যে হিন্দু পরিবার পেয়েছে ৫৮টি। মুসলিম পরিবার পেয়েছে বাকি ঘরগুলো। উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নে ৪১ টি ঘরের মধ্যে হিন্দু পরিবার পেয়েছেন ৩৬টি ঘর। অভিযোগ উঠেছে অধিকাংশ হিন্দু পরিবার স্থানীয় সিভিল প্রশাসনকে অনৈতিক ফায়দা দিয়ে ওই ঘর পেয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরিনগর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন (রেকর্ডিয়) জায়গায় স্বপ্ননীড়ের ঘর তৈরি করে তা বরাদ্দ দেয়া হয় কুলসুমাকে। ঘরের চাবি হাতে পাওয়ার পরপরই তা চলে যায় দেবরের হাতে। তার দেবর মাওলানা হাফিজ বেলাল এখন ওই ঘরে বসবাস করছেন। হাফিজ বেলাল বলেছেন, তিনি তার ভাবীর কাছ থেকে ঘরটি ক্রয় করে নিয়েছেন। তাই তিনি ওই ঘরে বসবাস করছেন। হাফিজ বেলাল প্রথমে কুলসুমাকে স্ত্রী দাবি করেন। পরে ওই দাবি থেকে ফিরে এসে জানান কুলসুমা তার ভাবী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাদ্দ হওয়া স্বপ্ননীড়ের ছয়টি ঘর পেতে সংশ্লিষ্টরা সিভিল প্রশাসন ও দালাল জনপ্রতিনিধিকে আর্থিক অনৈতিক ফায়দা দিয়েছে। এরা হলেন ইছাকলস ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের অর্জুন বিশ^াস, জিতেন্দ্র বিশ^াস, হরিন্দ্র বিশ^াস, দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরিনগর গ্রামের কবির মিয়া ও তার মা রমিজা বেগম এবং আনোয়ারা বেগম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেকর্ডিয় জমিতে স্বপ্ননীড়ের তিনটি ঘর তৈরি করে তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরা হচ্ছেন ইছাকলস ইউনিয়নের কোবিন্দ্র বিশ^াস, উদয় চাঁন বিশ^াস ও কেশব বিশ^াস। স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মতাকে আর্থিক ফায়দা দিয়ে ওই তিনটি ঘর পেয়েছেন তারা।

যোগাযোগ করা হলে অর্জুন বিশ^াসের স্ত্রী স্বরসতী নম:সুদ্র জানান, ’স্থানীয় মেম্বার রিপন বিশ^াস আমাকে বলেছেন, অনেক বড় ঘর হবে। আট হাজার ইট ব্যবহার করা হবে ওই ঘরে। সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। এখন দেখি তার কথা সঠিক নয়। কিন্তু এই ঘর পেতে তাকে চল্লিশ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই চল্লিশ হাজার টাকা মেম্বারকে দিয়েছি সুদে ঋণ করে।’

জিতেন্দ্র বিশ^াসের স্ত্রী শান্তি বিশ^াস বলেন, ’ চরা সুদে চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ এনে মেম্বার রিপন বিশ^াসের হাতে তুলে দিয়েছি।’ হরেন্দ্র বিশ^াসের স্ত্রী ঊষা রাণী বিশ^াস জানিয়েছেন, ’মেম্বার রিপনকে আটত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছি। এই টাকা সম্পূর্ণ সুদে ঋণ করে আনা। এই টাকা ও সুদ পরিশোধ করতে হবে খেয়ে না খেয়ে। তার স্বামী হরেন্দ্র বিশ^াস বর্ষাকালে মাছ ধরেন। শুষ্ক মৌসুমে দিনমজুরের কাজ করেন। এই দিয়ে চলে তাদের সংসার।’

দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরিনগর গ্রামে স্বপ্ননীড় ঘর পেয়েছেন রমিজা বেগম। তিনি জানান, ’আমি ও আমার ছেলে কবির দুইটি ঘর পেয়েছি। দুইটি ঘরই একই ছাদের নীচে। আমার ভাসুরের ছেলে সুহেল মেম্বারকে ধন্যবাদ দেই-একসাথে দুইটি ঘর দেয়ায়।’ গৌরীনগর গ্রামের আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, তার নতুন চৌচালার বড় টিনসেডের ঘর ভেঙ্গে ছোট একটি ঘর উপহার দিয়েছে। এই ঘর পেতে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে সুহেল মেম্বারকে।

ইছাকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি কুটি মিয়া বলেন, এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো আমাকে অপদস্ত করেছেন। তাই এ নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের আশা আকাক্সক্ষার ভরসাস্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এদেশের ভূমিহীন মানুষকে স্বপ্ননীড় ঘর উপহার দিয়েছেন। এই ঘর নিয়ে কোম্পানীগঞ্জে কোনো ধরণের অনিয়ম হলে অবশ্যই তা অগ্রহণযোগ্য। অনিয়ম হলে তা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ননীড় প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের হস্তক্ষেপ নেই। তাই অনিয়মের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে জানান। উপজেলা পরিষদের যেসব কাজ হয়, সেসব ফাইলে তিনি দস্তখত দিয়ে দেন বলে জানান শামীম আহমদ।