
মোঃ হুমায়ুন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথপুর – বিশ্বনাথ -রশীদপুর সড়ক সংস্কারের দাবীতে জগন্নাথপুর উপজেলা মালিক – শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট এর প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ ১ লা সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর – বিশ্বনাথ -রশীদপুর ও জগন্নাথপুর – পাগলা সড়কে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল না করার কারনে জগন্নাথপুরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন। ভাঙা -ছোড়া সড়ক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট চলবে বলে জানা গেছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথপুর – বিশ্বনাথ – রশীদপুর সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পাশা-পাশি সড়কের ওপর ছোট – বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন এমনকি পথচারী চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় শহর সিলেট ও রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী এই সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জীবন জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহনে চলাচল করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখে জানাযায়, জগন্নাথপুর – বিশ্বনাথ – রশীদপুর- সিলেট সড়কের গর্ত গুলোতে বৃষ্টির পানি জমে শত শত মিনি পুকুরে রুপান্তরিত হয়েছে। যার ফলে যানবাহন চলাচল আরোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এলাকাবাসী,পরিবহন মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের দাবী সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিকট বার বার জানিয়ে আসার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।বার বার শোনানো হয় আশার বানী। বিধায় যান-মালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই জগন্নাথপুর উপজেলা মালিক – শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সড়ক সংস্কারের দাবীতে জনগুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ- রশীদুর- সিলেট ও জগন্নাথপুর – পাগলা সড়ক সহ আভ্যন্তরীন সবকটি সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য আজ ১ লা সেপ্টেম্বর ভোর ৬ টা থেকে বন্ধ ঘোষণা করেন। জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট, জগন্নাথপুর-সিলেট বাসস্ট্যান্ড, ইকড়ছই এলাকা, হাসপাতাল পয়েন্ট ও কলকলিয়া অটোটেম্পু ও সিএনজি স্ট্যান্ড সহ জগন্নাথপুরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শ্রমিকরা ও শ্রমিক নেতারা দিনবর পিকেটিং করতে। শ্রমিকদের বাঁধার কারণে কোন প্রকার যান চলাচল করতে পারেনি। এমনকি মালামাল বহণকারী যানবাহনও চলাচল করতে দেয়া হয়নি। অতীব জরুরী প্রয়োজনে পথচারীরা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।সড়ক সংস্কারের দাবীতে শ্রমিকদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘট এর প্রতি একাত্মা প্রকাশ করেছেন জগন্নাথপুরবাসী।
এব্যাপারে জগন্নাথপুরের একাধিক ব্যক্তি তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমাদের প্রবাসীরা সরকারের রাজস্বখাতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। আজ আমরাই উন্নয়ন বঞ্চিত। জীবন জীবিকার তাগিদে শান্তি মত সড়ক পথে যাতায়াত করতে পারছিনা। আমাদের এই দুর্ভোগ কি লাগব হবার নয়।
এব্যাপারে জগন্নাথপুর মিনিবাস শাখার সভাপতি গোলাম রব্বানী ও জগন্নাথপুর উপজেলা মালিক -শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খেজর বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার হবে প্রশাসনের নিকট হতে এমন আশ্বাস পেয়ে একাধিকবার আমাদের বিভিন্ন কর্মসুচী প্রত্যাহার করেছি। বর্তমানে সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাধ্য হয়ে আমরা কর্মসুচী দিয়েছি। প্রায় ৬ মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মসুচীকে বানচাল করতে গত ৩০ শে আগষ্ট দুই তিনজন শ্রমিক দিয়ে সড়কের একাংশ কাজের নামে নাটক করা হচ্ছে। দ্রুত সঠিকভাবে সড়কে কাজ না করা হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কের কাজ চলছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে সড়কের গর্ত ভরাটের কাজ গত দুইদিন ধরে শুরু করা হয়েছে। এরপরও পরিবহন ধর্মঘট ডাকা খুবই দুঃখজনক।