, ,

“হিঙ্গাইর “আন্ত:সীমান্ত নদী

admin
প্রকাশিত October 4, 2020, 05:56 PM
“হিঙ্গাইর “আন্ত:সীমান্ত নদী

আব্দুল হাই আল হাদী ঃ
’হিঙ্গাইর’ একটি আন্ত:সীমান্ত নদী। ভারতের মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া হিলস ডিস্ট্রিকের এক পশ্চাৎপদ জনপদ হিনগারিয়া পুঞ্জি থেকে এটি উৎপত্তি লাভ করেছে। হিনগারিয়া থেকে হিঙ্গাইর নামকরণ হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। হিনগারিয়া পুঞ্জি খেলিয়েহরিয়াট তহসিল বা ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম। জোয়াই থেকে গ্রামটির দুরত্ব ১৩৩ কিমি এবং খেলিয়েহরিয়াট থেকে ১০ কিমি। পুঞ্জির লোকসংখ্যা ৯৩০ এবং এখানে ১৬৮ টি পরিবার বসবাস করে। যাইহোক, উৎসস্থল থেকে অনেকদূর আসার পর এটি প্রায় ৩ কি.মি. এলাকা বাংলাদেশ-ভারতের সীমানা বিভাজক হিসেবে অতিক্রমের পর অবশেষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সিলেটে কানাইঘাট উপজেলার সোনাতনপুঞ্জির পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশের পর এটি সোজা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে চতুল-সুরইঘাট সড়ক অতিক্রম করে। পরবর্তিতে এটি পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে অনেকগুলো হাওর-বাওর-বিল-জনপদ অতিক্রম করে সর্বশেষ চতুল বাজারে লাইন নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর নদীটির প্রশস্থতা ক্রমশ: বৃদ্ধি পেয়েছে।
সে হিঙ্গাইর নদীকে দেখার সুযোগ হয়েছে অনেকবার। কিন্তু সেসব দেখা ছিল ভাসাভাসা। ধারণা ছিল, এটি হাওর নি:সৃত ছোট খাল টাইপের একটি নদী। গতকাল শুক্রবার সে হিঙ্গাইর নদীকে দেখলাম খুব কাছ থেকে। অনেক ভুল ভাঙ্গলো। বাংলাদেশে প্রবেশপথের দুর্গম অংশে ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হল। গা ছমছম করা উচুঁ পাহাড় আর নিবিড় অরণ্যের বুক চিরে হিঙ্গাইর এসেছে একবুক বেদনা নিয়ে। হিনগারিয়ার প্রাকৃতিক মানুষদের দু:খ আর কান্নার আওয়াজ স্পষ্টই পাওয়া যায় হিঙ্গাইরের জলে। বেদনার সে জলে এদেশের মানুষের অনেক উপকার হলেও হিঙ্গাইরের উপর বর্বরতা একটুও কমেনি। দখল-দূষণ আর ভরাটে হিঙ্গাইর আজ ক্লান্ত, বিধ্বস্থ। আন্ত:সীমান্ত নদী কিংবা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদীর তালিকায়ও তার নাম নেই।
হিঙ্গাইর বেঁচে থাকুক মানুষের ভালোবাসায়।। চিরদিন, অনন্তকাল।