, ,

কানাইঘাটে পাওনা টাকার জের ধরে সংঘর্ষে ২০ জন আহত, গুরুতর আহত ১০জনকে ওসমানীতে প্রেরণ

admin
প্রকাশিত August 11, 2021, 02:18 PM
কানাইঘাটে পাওনা টাকার জের ধরে সংঘর্ষে ২০ জন আহত, গুরুতর আহত ১০জনকে ওসমানীতে প্রেরণ

কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জির বাদশা বাজারে পাওনা টাকার জের ধরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাউরভাগ ২য় খন্ড গ্রামের মুজম্মিল আলীর ছেলে এনাম উদ্দিন সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মকবুল আলীর পুত্র হারুন রশিদের কাছে ২ লক্ষ ৮০ হাজার পাওনা টাকা নিয়ে গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাদশা বাজারে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এতে বাজারে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে ১ লক্ষ টাকা করে আমানত ধার্য্য করে, নগদ ১০ হাজার টাকা সালিশ ব্যক্তিত্বের কাছে দেওয়ার জন্য সিন্ধান্ত হয়। এতে এনাম উদ্দিন তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা সালিশ ব্যক্তিত্বের কাছে জমা দেন। কিন্তু হারুন রশিদের আমানতের ১০ হাজার টাকা বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার কথা বলে রাত অনুমান ১১ টার দিকে হারুন রশিদ তাহার ভাই, ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন সহ ১৫/২০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদশা বাজারে প্রবেশ করে এমান উদ্দিন ও তার আত্মীয়-স্বজনদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এ সময় হারুন রশিদ গংরা দা ও রুইল দিয়ে এনাম উদ্দিন ও তার আত্মীয় স্বজনদের এলোপাতাড়ি কোপিয়ে, মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এতে এনাম উদ্দিন ও তার পিতা মুজম্মিল আলী, চাচা ২নং ইউপি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী নজিব আলী, চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, বিলাল উদ্দিন, শামীম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আছার আহমদ, মোহাম্মদ আলী, মারুফ আহমদ গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে হারুন রশিদ গংরা এনাম উদ্দিন ও তার আত্মীয় স্বজনের বাদশা বাজারে থাকা ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে চলে যায়। পরবর্তীতে বাজারে থাকা লোকজন গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিওমেক হাসপাতালে রেফার করেন এবং অন্যান্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন।
এ ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার একদল পুলিশ সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সাথে জড়িত হারুন রশিদ ও তার ৪ ভাই সহ ৫ জনকে আটক করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় আটক ৫ জন সহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। গতকাল বুধবার আটক ৫জন উক্ত মামলায় এজাহার নামীয় হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
অপরদিকে হারুন রশিদের স্ত্রী মিনারা বেগম জানান, তার স্বামী হারুন রশিদের সাথে এনাম উদ্দিনের টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে তার স্বামী ও দেবরদের উপর এনাম উদ্দিন গংরা হামলা করে। এতে তার স্বামী-দেবর সহ ৭ জন আহত হয়েছেন। এনাম উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।