
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগরে কাভার্ড ভ্যানের চালক ও সুপারভাইজারকে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মালামালসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে রবিবার রাতে মঙ্গলচণ্ডী বাজার এলাকা থেকে মালামাল উদ্ধার ও প্রথম ধাপে তিনজনকে এবং পরবর্তীতে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—তাজপুর ইউনিয়নের রবিদাস গ্রামের শানুর মিয়া, উমরপুর ইউনিয়নের মাঠিহানী গ্রামের রলেক মিয়া ও দিলশাদ আহমেদ সাদি, তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের আ. মজিদ (২৪), গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গুপ্তপাড়া গ্রামের মো. সুফিয়ান আহমেদ (২৬) এবং মোগলাবাজার উপজেলার চর মোহাম্মদপুর (বর্তমান সুরতপুর) গ্রামের সাইদুর রহমান সাদি।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এস এ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ-১৪-৩৮০৩) কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে দুই পাশে মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপে থাকা প্রায় ১০ জনের একটি ডাকাত দল ভ্যানটিকে থামাতে বাধ্য করে। চালক দরজা না খুললে ডাকাতরা জানালার গ্লাস ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চালক দরজা খুললে চারজন ডাকাত অস্ত্রের মুখে চালক মো. মোস্তফা ও সুপারভাইজার মো. ফারাদুল ইসলামকে জিম্মি করে ফেলে।
পরে সুপারভাইজারকে একটি পিকআপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চালকের কোমরে ছুরি ধরে তাকে নির্দিষ্ট পথে গাড়ি চালাতে বাধ্য করা হয়। তাজপুর মঙ্গলচণ্ডী বাজার সংলগ্ন নির্জন স্থানে ভ্যানটি থামিয়ে সুপারভাইজারের কাছে চাবি চেয়ে না পেয়ে তার মাথায় অস্ত্র ধরে তালা খুলে ফেলে ডাকাতরা।
এসময় ভ্যানে থাকা প্রায় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯০ টাকার পণ্য—মসলা, ফুসকা, টি-শার্ট, ক্রিম, জিরা, সিগারেট, চাল, কাপড় ও গিফট সামগ্রী লুট করে নেয় তারা।
ডাকাতির পর সুপারভাইজার ও চালককে শেরপুর টুল প্লাজার সামনে নামিয়ে দিয়ে তাদের দুইটি মোবাইল দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে বিষয়টি এসএ পরিবহণের সিলেট ও ঢাকার শাখাকে অবহিত করা হয়। সিলেটের নাইওরপুল শাখার ম্যানেজার শাহ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে ও পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, ঘটনার পর পরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এসএ পরিবহনের সুপারভাইজার ফারাদুল ইসলাম অজ্ঞাত ১৫-১৬ জনকে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।