, ,

শাল্লায় স্বেচ্চায় রক্তদানের ছোট উদ্যোগ থেকে সুদৃঢ় মানবিক নেটওয়ার্ক

admin
প্রকাশিত September 6, 2025, 10:35 AM
শাল্লায় স্বেচ্চায় রক্তদানের ছোট উদ্যোগ থেকে সুদৃঢ় মানবিক নেটওয়ার্ক

নাসির সুলতান,শাল্লা প্রতিনিধি

শাল্লা উপজেলা থেকে এক মানবিক উদ্দ্যোগে রক্তদানকে বড় আকারে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২রা আগস্ট ইমরান আফ্রিদি সর্বপ্রথম মেসেঞ্জার গুপে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যখন শাল্লার একজন রোগী প্রান হারানোর কাছে পৌঁছেছিলেন রক্তের অভাবে।

ইমরান আফ্রিদির সাথে বিশেষভাবে রক্তদানে সহায়তা করেছেন সিমান্ত তালুকদার সুমন। সিমান্ত তালুকদার সুমনের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় ইমরান একটি মেসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করেন, যার মাধ্যমে শাল্লা উপজেলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্ত প্রয়োজনীয় মানুষদের সঙ্গে রক্তদাতাদের সংযোগ স্থাপন করা হয়।

গ্রুপটির নাম “Blood Donor’s in Shalla Upazila”, এবং এর প্রতিটি সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কারণে আজ এই ছোট উদ্দ্যোগটি বড় পরিসরে প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান রক্তদানের এই উদ্যোগ তাদেরকে জীবনের সংকট মুহূর্তে সহায়তা করছে এবং সমাজে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

উদ্যোক্তা ইমরান আফ্রিদি বলেন, “আমরা চাই সবাই রক্তদানের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখুক। এ পর্যন্ত আমরা কমপক্ষে ৩০০ শ’র বেশি রোগীকে রক্ত দিয়ে পাসে থাকতে পেরেছি। এক ব্যাগ রক্ত কারও জীবন বাঁচাতে পারে। যারা এখন পর্যন্ত রক্ত দিয়েছেন বা ভবিষ্যতে দিবেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের এই উদ্যোগ শুধু শাল্লায় নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পরুক।”

এভাবেই এক সাধারণ মানবিক উদ্দ্যোগ ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা শাল্লার সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
শুরুতে তিনি পরিবার থেকে বাধার মুখে পড়েন। পরিবার থেকে তাঁদের বলা হয়, ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে’ হবে না। কিন্তু তিনি এতে দমে যাননি। উদ্যম আর ব্যাপক উৎসাহের কাছে কোনো বাধাই টেকেনি। উল্টো এখন পরিবারের পক্ষ থেকে এই তরুণদের রক্তদানে উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যরা যাঁরা আগে কখনো রক্ত দেননি, তাঁরাও এখন রক্তদানে উৎসাহিত হচ্ছেন।
গ্রুপের সদস্যরা বলেন, তাঁরা শুধু রক্তদাতা খুঁজে দিয়েই বসে থাকেন না, রক্তদাতাকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, রক্তদান পর্যন্ত এবং রোগীর সুস্থ হওয়ার পর্যন্ত খোঁজখবর রাখেন তাঁরা। এরপরও ডোনার ও রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন গ্রুপের সদস্যরা। এমনকি যতবার রক্তের প্রয়োজন পড়ে, ততবারই রক্তের ব্যবস্থা করে দেন তাঁরা।
ইতো মধ্যেই তিনি মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়েছেন ০৫ বার। তাঁদের গ্রুপ এপর্যন্ত ৩০০ শ’র বেশি রোগিকে রক্ত দান করেছে।