, ,

মাধবপুরে ধর্ষণের অভিযোগ: সালিশে ৯০ হাজার টাকা, দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার

Jakaria Jusef
প্রকাশিত August 29, 2026, 04:24 PM
মাধবপুরে ধর্ষণের অভিযোগ: সালিশে ৯০ হাজার টাকা, দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং অভিযুক্তকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ওই অর্থের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবার এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২০ আগস্ট দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া ওই কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি আইনগতভাবে না নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক এক চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। সালিশে অভিযুক্ত হানিফ মিয়াকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, মামলা চালাব কীভাবে? তাই মেম্বার আবেদুর রহমানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে ৯০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও আমরা হাতে পেয়েছি মাত্র ২০ হাজার টাকা।”

সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৈঠকে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ৯০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে আইনজীবী মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা আইনগতভাবে নিষ্পত্তির বিষয়; সালিশের মাধ্যমে এর মীমাংসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

ঘটনার বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।