, ,

নিকুঞ্জ ভিলা হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

admin
প্রকাশিত August 20, 2026, 07:51 PM
নিকুঞ্জ ভিলা হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় সংঘটিত বহুল আলোচিত বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে বিচারকের খাস কামরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মইনুল হক বুলবুল জানান, দুপুর ১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার খাস কামরায় তাকে নেওয়া হয় এবং বিকেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট বাবুল মিয়াকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। গত ১২ আগস্ট সকালের দিকে নিকুঞ্জ ভিলার নিজ বাসা থেকে বাড়ির মালিক ও প্রবীণ ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলেই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেখানো স্থান থেকেই হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তিনি ওই বাসায় গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে বাকবিতণ্ডা বাধে। একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হলে তা থামাতে এগিয়ে আসেন সুরাইয়া বেগম ও পরে আব্দুস সাত্তার। তাদের তিনজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বাবুল।

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট শাহী ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে নিহত দম্পতি আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমকে মানিক পীরের টিলায় দাফন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের সন্তানরা দেশে ফেরার পর কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক, কয়লা ব্যবসায়ী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সম্পূর্ণ ঘটনা বাবুল মিয়ার জবানবন্দিতে কীভাবে উঠে আসে এবং তদন্তে তা কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই সবার নজর রয়েছে।