, ,

হাওরকন্যার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল ‘গুণী শিক্ষক’ মনোনীত

Jakaria Jusef
প্রকাশিত September 24, 2026, 06:35 PM
হাওরকন্যার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল ‘গুণী শিক্ষক’ মনোনীত

হুমায়ূন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:

শিক্ষা বিস্তার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে “গুণী শিক্ষক” নির্বাচিত হয়েছেন ঐতিহ্যবাহী আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল।

আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি সার্বিক মূল্যায়ন শেষে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে মনোনীত করে। ইতিমধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ের মনোনয়নের জন্য তাঁর নাম পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ রায়।

উপজেলার কাদিপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এইচ এম আজমল। তাঁর প্রয়াত পিতা মোঃ ইউছুফ আলী সাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর বড় ভাই মোঃ মকবুল হোসেন সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে শিক্ষা খাতে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতার দীর্ঘ পথচলায় ১৯৯৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন এইচ এম আজমল। পরে ২০০৮ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ২০১০ সালের ১৩ মার্চ পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি কেবল পাঠদানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিদ্যালয়কে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও ভৌত অবকাঠামোয় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে চারতলা ভিত্তিবিশিষ্ট দুটি বিশাল ভবন। প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের মাইলফলক স্পর্শ করে। এমনকি ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮০.২৭ শতাংশ পাসের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ১,২১৩ নম্বর অর্জন করে পুরো উপজেলায় শীর্ষ স্থান দখল করে।

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর নির্দেশনায় ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী বিকেএসপিতে দীর্ঘ এক মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ লাভ করে। এছাড়া অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগেও নানা সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

একজন নিরহংকারী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের এই বিরল অর্জনে আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভকামনা জানাচ্ছেন।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় গুণী শিক্ষক এইচ এম আজমল জানান, এই স্বীকৃতি তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অর্জনকে পরিচালনা পর্ষদ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সকলের নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।