
দিনরাত সংবাদঃঃ গত ১৮ জুলাই, ২০২০ খ্রি তারিখে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেটি হলো জৈন্তাপুরের ফেরিঘাট বড়গাং এবং খেয়াঘাট এলাকায় জনৈক জেলের জালে কুমিরের বাচ্চা ধরা পড়ে এবং সেটি আটক অবস্থায় থাকে। এর কারণে জনমনে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই কুমির আতংকে আতংকিত হয়। কেউ কেউ আবার কুমিরের কারণে জৈন্তাপুর উপজেলায় মাছের সংকট দেখা দিবে মর্মেও আশংকা করেন। যারা সচেতন মহল এবং বন্য প্রাণি এবং সংকটাপন্ন প্রাণি নিয়ে কাজ করেন তারা উক্ত কুমির বাচ্চাকে উদ্ধার করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন স্বভাবতই এ আতংক এবং উৎকন্ঠা দূর করার জন্য অনেকেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা প্রশাসন জৈন্তাপুর এর নজরে এই খবর আসলে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপন না করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এর ফেসবুক আইডিতে ১৮ জুলাই কুমির সমাচার নামে একটি স্টেটাস দেয়া হয় যা নিম্নরূপ ঃ”
কুমির সমাচারঃ
সকালে জৈন্তাপুরের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন দিয়ে জানায় যে জৈন্তাপুর এর বড়গাং এলাকায় একজন লোকের জালে কুমিরের বাচ্চা আটক হয়। তিনি আমাকে এই কুমিরের বাচ্চা উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। যদিও বনবিভাগ এসমস্ত কাজ করে থাকে এবং আমাদের জৈন্তাপুরের বনবিভাগ এসব বিষয়ে খুবই আন্তরিক তারপরও ফোন পেয়ে আমি কালক্ষেপণ না করেই জৈন্তাপুর মডেল থানায় ফোন দেই। মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাথে সাথে ফোর্স দেন এবং আমরা ফোর্সসহ কুমিরের বাচ্চা উদ্ধারে বড়গাং এলাকায় যাই। সেখানে যাবার পর কয়েকজন আহমদেরকে ফেরিঘাট এলাকায় যেতে বলেন।
আমরা ফেরিঘাট গেলে বনবিভাগ এর লোকজন আমাদের সাথে যোগ হন।তাদেরকে সাথে নিয়ে ফোনে যোগাযোগ করে এবং উপস্থিত কয়েকজনের পরামর্শে আমরা খেয়াঘাট এর দিকে যাই।সেখানেও কুমিরের বাচ্চা না পেয়ে আমরা রূপচেং এর দিকে যাই। ঐ এলাকার কিছু লোকের সাথে কথা বলে কুমির সম্পর্কে জানতে চাই কিন্তু তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেনা বলে জানান।
তারপর আবার আমি ফোনে যোগাযোগ করে অবহিত হতে চেষ্টা করি আসলে কুমিরের বাচ্চা কোথায় আছে। তথ্যদাতা আমাকে ফোনে একটি নাম্বার দেন। ওই নাম্বারে যোগাযোগ করে আবারও বড়গাং এলাকায় কিছুক্ষণ থেকে বনবিভাগের লোকের কাছে মোবাইল নাম্বার দিয়ে দেই এবং কুমিরের বাচ্চা খোজার কাজ অব্যাহত রাখতে বলি।
আসল কথা হচ্ছে আমরা যারা সরকারি কর্মচারী আমাদের কাজ জনগণের সেবা করা। তাই অনুরোধ করব যারা তথ্য দিচ্ছেন তারা একটু নিশ্চিত হয়ে দিবেন। তাহলে আমাদের জন্য সহজ হবে। তা না হলে অযথা হয়রানি হবো, কাজের কাজ কিছুই হবেনা।
সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য শুভকামনা রইল।
বি.দ্র. এখনো কুমিরের বাচ্চা খুজে পাই নি।“
পরবর্তীতে ১৯ জুলাই আসল ঘটনা জানা যায়। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী খেলাচ্ছলে ফেসবুকের একটি প্লাস্টিকের কুমিরের বাচ্চার ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করেন। সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর অনেকেই যাচাই বাছাই ছাড়াই শেয়ার জরতে থাকে।যেহেতু ছেলেটি ছাত্র এবং তার সামনে সুন্দর ভবিষ্যত রয়েছে তাই তার কৃতকর্মের অনুশোচনা করায় স্থানীয় প্রেসক্লাবের একজন সদস্যের উপস্থিতিতে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। সে ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের কাজ করবেনা মর্মে লিখিত দেন এবং সেখানে তার অভিভাবক তার দায়িত্ব নেন।
এ সম্পর্কে সহকারী কমিশনার ভূমি ফারুক আহমেদ বলেন, “ স্থানীয় সাংবাদিক এবং অভিভাবকদের অনুরোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে ক্ষমা করে দেন এবং এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেন। এছাড়াও কোন সংবাদ শেয়ার দেয়ার পূর্বে এটা সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনেশুনে শেয়ার দেয়ার জন্যও জৈন্তাপুরবাসীকে আহবান জানান।