
সুহিন মাহমুদ (জাফলং থেকে):: কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির বোনা আমন। তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলাসহ সবজি ক্ষেতও। অবেলায় আবারও বন্যা দেখা দেয়ায় কৃষকের হয়েছে সর্বনাশ। রোপায়িত জমির বোনা আমন ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নতুন করে ধানের চারা রোপণের সময়ও প্রায় শেষ। কাজেই এ যাত্রায় যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে, তাদের আর কোন উপায় থাকবে না। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়াতে মানুষ পরেছে বিপাকে।বন্যার পানির স্রোতের কারণে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে।
ভারতীয় পাহাড়ি পানি আসায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সারী, পিয়াইন, গোয়াইন ও ডাউকি নদীর পানি। প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে (২৩শে সেপ্টেম্বর) থেকে গোয়াইনঘাটের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় অনেক গ্রামীন রাস্তা আজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।গৃহপালিত গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শত শত পরিবারের মানুষজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা কয়কে দিনের ভারী বর্ষণ এবং ডাউকি, পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বুধবার থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল পর্যন্ত যা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসাম পাড়া, আসাম পাড়া হাওর, ছৈলাখেল অষ্টম খন্ড (আংশিক এলাকা) নবম খন্ড, সানকি ভাঙ্গা হাওর, নয়াগাঙের পার, বাউরবাগ হাওর, ভিত্রিখেল হাওর, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর, তিতকুল্লি হাওর, বুধিগাঁও হাওর, রাজবাড়ি কান্দি গ্রামসহ পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল, নন্দীরগাঁও এবং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে করে কৃষকের বোনা আমন ও আমন ধানের বীজতলা এবং সবজি ক্ষেতসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টরের বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুলতান আলী জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর বোনা আমন তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে এর পরিমান আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আর যদি বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় তাহলে, তলিয়ে যাওয়া ফসলের তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।