
দিনরাত ডেস্ক ঃঃ বহুল আলোচিত কলেজ ছাত্রী হাবিবার মামলায় চারযশীট দাখিল করেছে শাহপরান থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রী হাবিবা আক্তার এর স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহোদর ভাই সুজন কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল দাখিলকৃত চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর বড়ুয়া উল্লেখ করেন আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সুজন আহমদ আপন ভাই। বাদিনী হাবিবা আক্তার এর পিতার বাড়ি গোলাপগঞ্জ থানা হলেও দীর্ঘ দশ এগারো বছর থেকে সিলেটের শহরতলী ইসলামপুর মেজরটিলা এলাকায় বসবাস করছেন। ভিকটিম হাবিবা আক্তার এর খালার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার অন্তর্গত বনগাও হওয়ায়, ভিকটিমের খালার বাড়ীতে বিয়ে প্রতারক মামুন আসা যাওয়া করিতো। এক পর্যায়ে হাবিবা ও মামুন প্রেমের সম্পর্ক করে অবশেষে নগরীর মেজরটিলা এলাকায় স্বামী ও স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস শুরু করে। অনেক টালবাহানার পর পারিবারিক ভাবে বিয়ে সম্পন্ন করতে আসামী সুজন ও মামুন কাবিননামা সমপন্ন করে। কিন্তু এই কাবিননামা সমপন্ন করেই কুটকৌশল শুরু করে দুই সহোদর। মামলা থেকে বাঁচতে এই কাবিননামা মামুন ও সুজন সমপন্ন করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এর পর থেকে মোটা অংকের যৌতুক আদায় করে মামুন ু সুজন। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের একমাত্র কন্যা হাবিবার মা অনেক কষ্ট করে টাকা পরিশোধ করেও মেয়েকে সুখী করতে পারলেন না। অবশেষে হাজার ও বরযাত্রী না খাওয়ালে হাবিবাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। এসব আয়োজন দরিদ্র হাবিবার মার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়লে গত ১৫ জানুয়ারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাবিবার স্বামী মামুন অন্যত্র বিয়ে করার ছবি ভাইরাল করে। ছবিতে তার ভাই সুজনকেও দেখা যায়। এর পর প্রতিবাদ করায় হাবিবাকে প্রাণে মারতে গভীর রাতে হামলা চালায় তারা। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলে গত ১৯ এপ্রিল শাহপরান থানা পুলিশ উক্ত মামলা তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। এই ঘটনায় সিলেটজুড়ে তখন তোলপাড় শুরু হয়েছিলো। আসামী মামুন ও সুজন জেল হাজত কেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে পূণরায় বেপোরোয়া হয়ে হাবিবাকে প্রাণে মারার হুমকি দিলে গত ৭ এপ্রিল শাহপরান থানায় নিজের ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডায়রী করেছেন হাবিবা। থানা পুলিশ কর্তৃক সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট ঐ কলেজছাত্রী। এখন হাবিবা তার অধিকার আর বিচারের জন্য লড়বেন বলে জানান।