অনেককেই মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে গিয়ে পাড়া-মহল্লার অলি-গলিতে বসে আড্ডা দিচ্ছে কিংবা চা পান করছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই তারা সকেট পড়ছেন। কাঁচা বাজারগুলোর অবস্থাও আগের মতোই। চার-পাঁচজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মাছ-সবজি কিনছে। এতে করে বাজারগুলোই করোনার হটস্পট হয়ে উঠছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগ করেও মানুষকে ঘরে আটকানো যাচ্ছে না। তাদের মতে, জেল-জরিমানা সবকিছুই হচ্ছে তবুও মানুষকে ঘরবন্দী করা যাচ্ছে না। কারণ ছাড়াই নানা অজুহাতে তারা বাইরে আসছে। আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই যদি করোনাভাইরাসের লাগাম টেনে ধরা না যায়, মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি না মানানো যায় তাহলে পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতোই হবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। সড়কে পুলিশের কড়াকড়ি থাকায় নগরের মূল সড়কগুলো ফাঁকা রয়েছে। তবে ভিন্ন চিত্র অলিগলির। কড়াকড়ি না থাকায় অলি-গলির চিত্র আগের মতোই। অন্যদিকে পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। তারা মাইকিং করে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতা মূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
সোমবার নগরের বিভিন্ন একলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দেখা যায়, মদিনা মার্কেট এলাকার কাঁচা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতাকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব।
নগরের জালালাবাদ এলাকায় গেলে দেখা যায়, ওই এলাকার বেশিরভাগ দোকান খোলা। প্রতিটি চায়ের দোকানে মানুষ বসে চা পান করছে আর আড্ডা দিচ্ছে। দেশে কঠোর লকডাউন চলছে এটা দেখে বুঝার উপায়ই নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ বলেন, ‘ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না। তাই বের হয়ে একটু চা খেতে এসেছি। এখানে এসে বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ায় আড্ডা দিচ্ছি।’
মদিনা মার্কেট এলাকার পল্লবী আবাসিক এলাকার গলির মুখে গেলে দেখা যায় ৮/১০ জন যুবক জটলা বেধে খোশগল্প করছে। তাদের কারো মুখেই মাস্ক পর্যন্ত ছিলো না।
ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুলিশের গাড়ির ডাক হুনলে রাস্তা খালি অইযায়। পুলিশ গেলেগি হিরিবার মানুষে আড্ডা দে।’
মানুষের জটলা দেখা গেছে কালিবাড়ি এলাকায়ও। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে মানুষ বের হয়েছেন। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। কেউ কেউ থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রেখেছেন মাস্ক। এছাড়া নগরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিকেল হলেই ভিড় করেন তরুণরা। এসব এলাকায় চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডা চলে বিকেল গড়ে রাত পর্যন্ত।
এদিকে সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত এক দিনে সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট ৪৯১ জনের প্রাণ কেড়ে নিলো করোনা। মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে ৪ জন সিলেট জেলার, দুইজন হবিগঞ্জের এবং সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের একজন করে রয়েছেন।
একই সময়ে সিলেটের চার ল্যাবে ৭৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার হিসেবে বিভাগে মোট শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এদিন সুস্থ হয়েছেন ১০৬ জন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। নগরের ১৬টি পয়েন্ট চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতিদিনই মামলা-জরিমানা করা হচ্ছে। যানবাহন আটকও করা হচ্ছে। তবুও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। পুলিশের টহলের পরপরই মানুষ রাস্তা-ঘাটে ভিড় জমান। লকডাউন সফল করতে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।’
সিলেট ভয়েস/ফাহিমা

