, ,

লকডাউনের এই সময়ে যে কয়েকজন মানুষের সাথে নিয়মিত দেখা হতো, কথা হতো তাদের একজন কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। গত শুক্রবারও এক সাথে ছিলাম ত্রাণ বিতরণে। করোনাকালে অসহায় মানুষের সেবায় এই মানুষটি কি-না করেছেন। নিজের ওয়ার্ডের অসহায় অস্বচ্ছল প্রতিটি ঘরে নিজ হাতে কয়েক দফায় পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। ঘরেবন্দি গরীব মানুষ শবেবরাতে, শবে কদরে খাবে কি? ঈদের দিন তো শুধু পিঠা-পায়েস, সেমাই খেলে চলবে না। ঈদের দিন পাতে মাছ-মাংস কিছু একটা তো থাকা উচিত। মোরগে অনেকের অরুচি আছে, আবার সবাই তো গরুর মাংসও খান না। অসহায় মানুষদের নিয়ে এমন ভাবনাও তাকে তাড়িত করতো। তাই ওয়ার্ডের অস্বচ্ছল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন মোরগ ও গরুর মাংস। যার যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়েই ঈদ কাটাবে। সাথে তো রয়েছে ঈদের দিনের নাস্তার জিনিসপত্র। গত দুই মাস ধরে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা এই মানুষটি কখনো নিজের দিকে ফিরে তাকাননি। দু:খী মানুষের মুখের হাসিতেই খুঁজে নিয়েছেন নিজের সুখ। ওয়ার্ডের সকল অস্বচ্ছল মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করার পর কিছুটা ক্লান্তিভাব চলে আসে তার মাঝে। একান্ত শুভাকাঙ্খিরা পরামর্শ দিলেন একবার করোনা টেস্ট করিয়ে নিতে। গতকাল শনিবার আজাদ ভাই, আমি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাবেক আলোকচিত্রি মিলন রায় মিলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করিয়ে নিলাম। সদাহাস্যেজ্জ্বল আজাদ ভাইকে সেদিনও খুবই ক্লান্ত লাগছিল। আজ রাতে টেস্টের রিজাল্ট এসেছে। আজাদ ভাই পজেটিভ। রেডলিস্টে আমাদের আর কারও নাম নেই। আজাদ ভাইকে নিয়ে আমি মোটেই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ নয়। মানুষের ভালোবাসাই তাকে সারিয়ে তুলবে। মানুষের ভালোবাসা আর দোয়াই দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি ফের ফিরবেন মানবতার ফেরিতে। আল্লাহ রাহমানুর রাহিম।

admin
প্রকাশিত May 24, 2020

আরো ফটো অ্যালবাম

লকডাউনের এই সময়ে যে কয়েকজন মানুষের সাথে নিয়মিত দেখা হতো, কথা হতো তাদের একজন কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। গত শুক্রবারও এক সাথে ছিলাম ত্রাণ বিতরণে। করোনাকালে অসহায় মানুষের সেবায় এই মানুষটি কি-না করেছেন। নিজের ওয়ার্ডের অসহায় অস্বচ্ছল প্রতিটি ঘরে নিজ হাতে কয়েক দফায় পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। ঘরেবন্দি গরীব মানুষ শবেবরাতে, শবে কদরে খাবে কি? ঈদের দিন তো শুধু পিঠা-পায়েস, সেমাই খেলে চলবে না। ঈদের দিন পাতে মাছ-মাংস কিছু একটা তো থাকা উচিত। মোরগে অনেকের অরুচি আছে, আবার সবাই তো গরুর মাংসও খান না। অসহায় মানুষদের নিয়ে এমন ভাবনাও তাকে তাড়িত করতো। তাই ওয়ার্ডের অস্বচ্ছল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন মোরগ ও গরুর মাংস। যার যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়েই ঈদ কাটাবে। সাথে তো রয়েছে ঈদের দিনের নাস্তার জিনিসপত্র। গত দুই মাস ধরে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা এই মানুষটি কখনো নিজের দিকে ফিরে তাকাননি। দু:খী মানুষের মুখের হাসিতেই খুঁজে নিয়েছেন নিজের সুখ। ওয়ার্ডের সকল অস্বচ্ছল মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করার পর কিছুটা ক্লান্তিভাব চলে আসে তার মাঝে। একান্ত শুভাকাঙ্খিরা পরামর্শ দিলেন একবার করোনা টেস্ট করিয়ে নিতে। গতকাল শনিবার আজাদ ভাই, আমি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাবেক আলোকচিত্রি মিলন রায় মিলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করিয়ে নিলাম। সদাহাস্যেজ্জ্বল আজাদ ভাইকে সেদিনও খুবই ক্লান্ত লাগছিল। আজ রাতে টেস্টের রিজাল্ট এসেছে। আজাদ ভাই পজেটিভ। রেডলিস্টে আমাদের আর কারও নাম নেই। আজাদ ভাইকে নিয়ে আমি মোটেই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ নয়। মানুষের ভালোবাসাই তাকে সারিয়ে তুলবে। মানুষের ভালোবাসা আর দোয়াই দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি ফের ফিরবেন মানবতার ফেরিতে। আল্লাহ রাহমানুর রাহিম।