
কানাইঘাট প্রতিনিধি :
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক-সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব বেলাল আহমদ। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং একটি আধুনিক, মানবিক ও উন্নত কানাইঘাট গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে তিনি আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা এগিয়ে নিতে চান।
এর আগে ২০২৪ সালের কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বেলাল আহমদ। নির্বাচনের দিন কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর ভোটের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার ও নির্বাচনী পরিবেশের প্রশ্নটি সামনে আসে।
বেলাল আহমদের মতে, নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। তাই নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা
বেলাল আহমদের রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘদিনের। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা, কানাইঘাটের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া এমসি একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদল এবং এমসি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সঙ্গেও তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল।
বর্তমানে তিনি সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম, ঢাকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের মানুষের অধিকার আদায়, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করেও বৃহত্তর সিলেটের মানুষের দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সিলেট অঞ্চলের ন্যায্য দাবির পক্ষে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মুখসারিতে থেকে ভূমিকা রেখেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও সম্মুখসারিতে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বেলাল আহমদ বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট।
রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন বেলাল আহমদ। তিনি Image Foundation-এর চেয়ারম্যান। এই সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সহায়তা, বন্যা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, হুইলচেয়ার বিতরণ, রমজানে খাদ্যসহায়তা এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তাঁর উদ্যোগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, মানুষের সেবা শুধু জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব নয়; সমাজের সামর্থ্যবান প্রত্যেক মানুষেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা বিস্তৃত। তিনি সিলেট বিভাগীয় সমিতি, উত্তরা ঢাকার সাংগঠনিক ও দপ্তর সম্পাদক, কানাইঘাট সমিতি ঢাকার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার আজীবন সদস্য এবং গাছবাড়ি সমাজকল্যাণ ও যুব সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
পেশাগত জীবনে উদ্যোক্তা
পেশাগত জীবনে বেলাল আহমদ একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। তিনি Image Tex Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) এবং Luxoria-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তাঁর দৃষ্টিতে, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানো।
কানাইঘাটের উন্নয়নে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান
কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করতে চান বেলাল আহমদ।
তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে—
– যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন: গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করা।
– নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলা: সুরমা ও লোভা নদীর ভাঙন রোধ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
– শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া।
– স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোর সেবার মান বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা।
– কর্মসংস্থান সৃষ্টি: স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা।
– কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ: কৃষকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা।
– পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো: কানাইঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও পর্যটনসম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো।
– প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা: প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিনিয়োগকে স্থানীয় উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করা।
– স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া।
বেলাল আহমদের মতে, কানাইঘাটের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এর সঙ্গে মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
‘জনপ্রতিনিধিত্ব জনগণের আমানত’
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে বেলাল আহমদ বলেন, “কানাইঘাটের মানুষের অধিকার, সম্মান ও ভোটের মর্যাদা রক্ষা করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটি জনগণের আমানত ও দায়িত্ব।”
তিনি আরও মনে করেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং দল-মতনির্বিশেষে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
আগামী দিনে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বেলাল আহমদ। তাঁর প্রত্যাশা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়নের সুষম বণ্টন এবং জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে কানাইঘাটকে আরও সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য উপজেলায় পরিণত করা সম্ভব।
“সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে কানাইঘাট”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে চান বেলাল আহমদ।